যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা অব্যাহত রয়েছে ইরানে। এমতাবস্থায় দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদ অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে পড়েছে। কয়েকজন প্রভাবশালী কট্টরপন্থি ধর্মগুরু এই চাপ সৃষ্টি করেছেন। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে নেতৃত্ব সংকট উত্তোরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার (৭ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এই আহ্বান থেকে বোঝা যাচ্ছে, বর্তমান অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব ব্যবস্থাকে নিয়ে ধর্মীয় মহলের একটি অংশে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হত্যার পর ইরানের সংবিধান অনুযায়ী সাময়িকভাবে একটি তিন সদস্যের কাউন্সিল দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, ইরানে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রেরও ভূমিকা থাকা উচিত। তবে তেহরান এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, প্রভাবশালী ধর্মগুরু নাসের মাকারেম শিরাজি বলেছেন, দেশের পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত একজন নতুন সর্বোচ্চ নেতা নিয়োগ করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘দেশের বিষয়গুলো আরও ভালোভাবে সংগঠিত করার জন্য দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার।’
এর আগে গত সপ্তাহে আরও দুজন জ্যেষ্ঠ শিয়া ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ ফতোয়া জারি করে বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার আহ্বান জানান। মাকারেম শিরাজি বলেন, ‘যতক্ষণ না এই অপরাধীদের পৃথিবী থেকে নির্মূল করা হয়, ততক্ষণ প্রচেষ্টা চালানো মুসলমানদের জন্য ফরজ (ধর্মীয় কর্তব্য)।’
অন্যদিকে গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ হোসেন নূরী হামেদানি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ধর্মীয় সংস্থা অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টের সদস্যদের দ্রুত খামেনির উত্তরসূরি বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট, একজন জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতা এবং বিচার বিভাগের প্রধানকে নিয়ে গঠিত তিন সদস্যের একটি কাউন্সিল সাময়িকভাবে সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করে।
সংবিধানে বলা আছে, তিন মাসের মধ্যে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করতে হবে। তবে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদ কত দ্রুত বৈঠক ডেকে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিভিন্ন সূত্র বলছে, কিছু ধর্মগুরু ইতোমধ্যে অনলাইনে এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছেন।