ফেসবুকে ভুয়া পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে অন্যের তৈরি কনটেন্ট নিজের নামে প্রকাশ করার ঘটনা বাড়ছে। এ ধরনের অভিযোগ বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে কনটেন্ট নির্মাতাদের সুরক্ষায় নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে Facebook। ভুয়া পরিচয়ে পরিচালিত অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করার পাশাপাশি নকল কনটেন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়াও আরও সহজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মৌলিক বা অরিজিনাল কনটেন্টের সংজ্ঞা স্পষ্ট করে কনটেন্টসংক্রান্ত নির্দেশিকাও হালনাগাদ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
সম্প্রতি প্ল্যাটফর্মটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি নিম্নমানের কনটেন্ট এবং কপি করা পোস্টের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, যা প্ল্যাটফর্মের স্বাভাবিক পরিবেশকে প্রভাবিত করছে। এ পরিস্থিতিতে গত বছর থেকেই স্প্যামধর্মী ও অরিজিনাল নয় এমন কনটেন্টের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দেয় Meta Platforms। অন্যের ছবি, ভিডিও বা লেখা বারবার ব্যবহার করে পোস্ট করা কিংবা সামান্য পরিবর্তন এনে পুনরায় প্রকাশ করা কনটেন্টগুলো এই উদ্যোগের আওতায় আনা হয়েছে।
মেটার মতে, কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য কার্যকর একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ফেসবুকের অবস্থান ধরে রাখতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, নিম্নমানের এআইনির্ভর কনটেন্ট যদি প্ল্যাটফর্মে বেশি ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে মৌলিক কনটেন্ট নির্মাতাদের আয় করার সুযোগ কমে যেতে পারে। এতে তারা অন্য প্ল্যাটফর্মে চলে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ফেসবুকে মৌলিক কনটেন্টের ভিউ এবং সেগুলো দেখার সময় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। পাশাপাশি ভুয়া পরিচয়ে পরিচালিত অনেক অ্যাকাউন্টও অপসারণ করা হয়েছে। কনটেন্ট সুরক্ষা আরও জোরদার করতে নতুন কিছু সুবিধা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করছে ফেসবুক। নতুন টুলের মাধ্যমে কোনো নির্মাতার তৈরি রিলস অন্য কেউ ভুয়া পরিচয়ে প্রকাশ করলে তা সহজেই শনাক্ত করা যাবে। একটি কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ড থেকে নির্মাতারা সরাসরি সেই কনটেন্ট চিহ্নিত করে অভিযোগ জানাতে পারবেন।
ফেসবুকের হালনাগাদ কনটেন্ট নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোনো নির্মাতা নিজে ধারণ বা তৈরি করেছেন এমন কনটেন্টকে মৌলিক হিসেবে গণ্য করা হবে। এছাড়া অন্য কনটেন্ট ব্যবহার করে বিশ্লেষণ, আলোচনা বা নতুন তথ্য যোগ করে তৈরি করা রিমিক্স বা ওভারলে ধরনের রিলসও মৌলিক হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে অন্যের কনটেন্ট সামান্য সম্পাদনা করে বা প্রায় একইভাবে পুনরায় প্রকাশ করলে সেটিকে মৌলিক ধরা হবে না। শুধু ভিডিও পুনরায় আপলোড করা বা বর্ডার ও ক্যাপশন যোগ করার মতো সামান্য পরিবর্তন করা হলে সেটিকে কম মূল্যমানের কনটেন্ট হিসেবে গণ্য করা হবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কনটেন্টের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধু মেটাই নয়, অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও কাজ করছে। যেমন, YouTube জানিয়েছে তারা এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও বা ডিপফেক শনাক্ত করার প্রযুক্তি আরও উন্নত করছে।