গবেষকরা বলছেন, এ ধরনের সংবাদ পরিবেশন সমাজে বিদেশিদের প্রতি নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা ২৫ লাখ ৮০ হাজারের কিছু বেশি, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫ শতাংশ।
বিদেশি বাসিন্দাদের মধ্যে রয়েছেন দীর্ঘমেয়াদি ভিসাধারী বিদেশি নাগরিক, নাগরিকত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং তাদের সন্তানরা। বিদেশি জনসংখ্যা দ্রুত বাড়লেও সমাজে তাদের নিয়ে নানা নেতিবাচক ধারণা এখনও দেখা যায়।
২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং সতর্ক করে বলেন, নির্দিষ্ট কোনো জাতিগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে গুজব বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেশের জাতীয় স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ক্ষতি করতে পারে। অন্যদিকে অপরাধের পরিসংখ্যান ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে।
জাতীয় পুলিশ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মোট অপরাধে গ্রেফতার হওয়া বিদেশির সংখ্যা ছিল ৩৫ হাজার ২৯৬ জন, যা মোট অপরাধের মাত্র প্রায় ২ শতাংশ। গত এক দশকেও বিদেশিদের অপরাধের হার মোট অপরাধের তুলনায় ১.৩ থেকে ২.৪ শতাংশের মধ্যে স্থিতিশীল রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক কোরিয়ান নাগরিকের বিদেশিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ কম হওয়ায় তাদের ধারণা প্রায়ই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বদলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে। বিদেশি শ্রমিকদের বড় অংশ নির্দিষ্ট কয়েকটি শিল্পে কেন্দ্রীভূত।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ৪৪.৯ শতাংশ বিদেশি শ্রমিক উৎপাদন বা ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে কাজ করেন। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বিদেশিদের অপরাধ সংক্রান্ত খবর সংবাদমাধ্যমে তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুত্ব পায়।
সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা যায়, বাস্তবে বিদেশিদের অপরাধ ছিল মোট অপরাধের মাত্র ০.৯ শতাংশ। কিন্তু সংবাদ প্রতিবেদনে বিদেশিদের সংশ্লিষ্টতা ছিল প্রায় ৭.৭ শতাংশ। একই সময়ে কোরিয়ান নাগরিকদের করা অপরাধের মাত্র ৩ শতাংশ সংবাদে স্থান পেলেও বিদেশিদের অপরাধের প্রায় ২৬ শতাংশ খবর প্রকাশিত হয়।
গবেষকদের মতে, এই ধরনের সংবাদ পরিবেশন সাধারণ মানুষের মধ্যে বিদেশিদের অপরাধের হার নিয়ে অতিরঞ্জিত ধারণা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে খুন বা যৌন সহিংসতার মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে বিদেশিদের সংশ্লিষ্টতা মানুষ বাস্তবের তুলনায় বেশি মনে করে।
আরেকটি গবেষণায় বলা হয়েছে, বিদেশিদের নিয়ে সহানুভূতিশীল প্রতিবেদনও কখনও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক সময় সংবাদে অভিবাসীদের অসহায় বা সহায়তার প্রয়োজন এমন মানুষ হিসেবে দেখানো হয়, যা তাদেরকে সামাজিকভাবে দুর্বল বা কম সক্ষম হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে।
সংবাদমাধ্যমে বিদেশি অভিবাসীদের নিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ পরিবেশনই সামাজিক সম্প্রীতি ও সংহতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে মত গবেষকদের।