রাজধানী ঢাকা–র বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল নিতে গিয়ে ভোগান্তির মুখে পড়ছেন মোটরসাইকেল ও গাড়িচালকেরা। বিশেষ করে রাজারবাগ, মগবাজার ও পরীবাগ এলাকার কয়েকটি পাম্পে সকাল থেকেই তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় অনেককে। রাজারবাগ এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা জাকিরুল ইসলাম নামের এক মোটরসাইকেলচালক বলেন, এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে যেতে যেতেই অনেকটা তেল খরচ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও দ্রুত তেল পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে সময় ও জ্বালানি—দুই দিক থেকেই ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
দুপুরের দিকে গিয়ে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি পাম্পে সীমিত পরিমাণে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। অনেক মোটরসাইকেলকে প্রায় ২০০ টাকার অকটেন এবং ডিজেলচালিত যানবাহনকে প্রায় ৫০০ টাকার ডিজেল দেওয়া হচ্ছে। এতে অনেক চালক অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। তাদের মতে, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পর এত কম পরিমাণ তেল পাওয়া তাদের জন্য যথেষ্ট নয়। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা মিলছে না।
মগবাজার এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক জানান, তারা কয়েক দিন পরপর অল্প পরিমাণ অকটেন পাচ্ছেন। শেষবার যে পরিমাণ তেল পেয়েছেন, তা স্বাভাবিক চাহিদার তুলনায় অনেক কম। ফলে প্রতিদিন নিয়মিতভাবে তেল বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক সময় পাম্পে তেল না থাকায় বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
পরীবাগ এলাকার আরেকটি পাম্পের কর্মচারীরা জানান, আগে যে পরিমাণ তেল কয়েক দিনে বিক্রি হতো, এখন চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় একদিনেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। অনেক চালক আগেভাগেই তেল মজুত করার চেষ্টা করায় পাম্পে চাপ আরও বেড়ে যাচ্ছে। ফলে বাকি দিনগুলোতে তেল সরবরাহ না থাকায় অনেককে খালি হাতেই ফিরে যেতে হচ্ছে।
এদিকে তেলের জন্য পাম্পগুলোর সামনে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হওয়ায় আশপাশের সড়কগুলোতেও যানজট দেখা দিচ্ছে। কোথাও কোথাও ট্রাফিক পুলিশকে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রভাব আমদানিনির্ভর বাংলাদেশ–এর জ্বালানি বাজারেও পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পাম্পগুলোতে এ ধরনের চাপ ও সীমিত সরবরাহ কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।